ঘরে বসে ব্যাবসা || কোটিপতি হওয়ার মত ২০টি ই-কমার্স ব্যবসা আইডিয়া

যে কোন বাণিজ্যিক উদ্যোগ গ্রহণের সর্বপ্রথম কাজটি হলো উদ্যোগের জন্য নির্দিষ্ট একটি শিল্পের সুনির্দিষ্ট একটি বাজার নির্বাচন করা।

আপনি যদি অনলাইনে ই-কমার্স প্রক্রিয়ায় কোনো বাণিজ্যিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে চান কিংবা ঘরে বসে ব্যাবসা করতে চান কিন্তু কোন শিল্পকে কেন্দ্র করে উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে তা বুঝতে পারছেন না, তাহলে এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।


এই আর্টিকেল থেকে  জনপ্রিয় এবং সব সময় চাহিদা রয়েছে এমন কিছু বাণিজ্যিক বিভাগ এবং ব্যাবসার আইডিয়া সম্পর্কে জানতে পারবেন।যেগুলোর যেকোনো একটিকে নির্বাচন করে ই-কমার্স প্রক্রিয়ায় বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড শুরু করা যেতে পারে। চলুন একটি একটি করে বাণিজ্যিক বা ব্যাবসার আইডিয়া সম্পর্কে জানা যাক।



বাইসাইকেল স্টোরঃ

পরিবহন শিল্পে বাইসাইকেলের ব্যবহার জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিশেষ করে শহরগুলোতে অত্যাধিক যানজট সৃষ্টি হওয়ার ফলে মানুষের মাঝে বাইসাইকেলের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। 


এছাড়া বর্তমানে রয়েছে নানা রাইড শেয়ারিং অ্যাপ।যার ফলে ডেলিভারি শিল্প ও পেশাগত কাজে বাইসাইকেল এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে শুধুমাত্র 2017 সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় 45 বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বাইসাইকেল পণ্য বিক্রয় হয়েছে।2016 সালে শুধুমাত্র আমেরিকাতে বিক্রি হয়েছে ছয় বিলিয়ন ডলার এবং ইউরোপে 14 বিলিয়ন ইউরো সমান মূল্যের বাইসাইকেল পণ্য সামগ্রী বিক্রি হয়েছে। 


Thefinancialexpress এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় 15 লক্ষ বাইসাইকেলের চাহিদা রয়েছে।তাই এই শিল্পটিকে কেন্দ্র করে অনলাইন শপের মাধ্যমে ই-কমার্স বাণিজ্য শুরু করা যেতে পারে।

হার্ডওয়্যার যন্ত্রাংশের স্টোরঃ

নির্মাণ শিল্পে ইলেকট্রনিক্স হার্ডওয়্যার যন্ত্রাংশের ব্যবহার বাধ্যতামূলক।এমন কোন আবাসিক বা ব্যবসায়িক ভবন নেই যার নির্মাণে হার্ডওয়্যার যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয় না। এছাড়াও দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি পরিবারেই নানা ধরনের হার্ডওয়্যার টুলসের ব্যবহার হয়ে থাকে।

যেমনঃ ফ্যান, বাল্ব, পাওয়ার সুইচ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের টুলবক্স হাজারো ধরনের ইলেকট্রনিক্স পণ্য সামগ্রী। এসব পণ্যের চাহিদা পূর্বেও যেমন ছিল তেমনি ভবিষ্যতেও থাকবে তা সহজে ধারণা করা যায়। এখনো পর্যন্ত অনলাইনে হার্ডওয়্যারের তেমন কোনো মানসম্মত স্টোর নেই।তাই শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক্স হার্ডওয়্যার পণ্য সামগ্রী নিয়ে একটি অনলাইন স্টোর শুরু করা যেতে পারে এবং ‍ ঘরে বসে ব্যবসা করা যেতে পারে।

নির্মাণ সামগ্রী বা কাঁচামালের স্টোরঃ

বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশের মত নির্মাণশিল্পের আরেকটি জনপ্রিয় বাণিজ্য ক্যাটাগরি হলো নির্মাণসামগ্রী বা কাঁচামাল। এই ক্যাটাগরির বহুল পরিচিত পণ্যগুলো হল ইট,বালু, সিমেন্ট,রড,ইস্টিল সহ নানান নির্মাণ পণ্য সমূহ।


আশেপাশে প্রতিনিয়তই যেভাবে নতুন নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে তাতে বোঝাই যায়, দিনদিন উল্লেখিত পণ্যসমূহের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। তাই নির্মাণ সামগ্রী পণ্যসমূহের একটি অনলাইন স্টোর শুরু করে নির্মাণ কাঁচামাল গুলো সরবরাহকারী হিসেবে ই-কমার্স প্রক্রিয়ায় বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যেতে পারে।



অনলাইন ঔষধালয় বা ফার্মেসি স্টোরঃ

চিকিৎসা শিল্পে ওষুধ অন্যতম একটি বাণিজ্যিক বিভাগ।যার ব্যবহার মানুষের জীবনে অপরিহার্য এবং এর চাহিদা কখনো হ্রাস পাবে না। একটি অনলাইন ঔষধালয় বা ফার্মেসি স্টোর দ্বারা ই-কমার্স প্রক্রিয়ায় ওষুধ শিল্পে বাণিজ্য পরিচালনা করা যেতে পারে এবং অনলাইনে প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী সংগ্রহে গ্রাহকদের সহায়তা করা যেতে পারে।


এছাড়া প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রাহকদের লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে সহজেই স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ প্রদান করা সম্ভব।


আরো পড়ুনঃ৯টি উপায়ে মোবাইল দিয়ে অনলাইন থেকে ইনকাম করুন || Earn Money from online by mobile


ফ্যাশন ও পোশাক স্টোরঃ

অনলাইনে দ্রুত বেড়ে ওঠা অন্যতম একটি বাণিজ্যিক ক্যাটাগরি হচ্ছে ফ্যাশন ও লাইফ স্টাইল। একটি পরিসংখ্যান সংস্থার জরিপে পাওয়া গিয়েছে ফ্যাশন ও লাইফ স্টাইল ক্যাটাগরি ই-কমার্সের অনেক বড় একটি অংশ।


জরিপে এও বলা হয় যে, 2019 সালে অনলাইনে বিশ্বব্যাপী পোশাক পণ্য সামগ্রী থেকে গ্রাহকরা খরচ করেছেন 528 বিলিয়ন ডলার এবং 2024 সালে এর পরিমান 829 বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও ফ্যাশন নিউজ জার্নাল WWT বলা হয় অনলাইনে ক্রয় বিক্রয় জনপ্রিয়তা পাওয়ার ফলে 2016 সালে প্রায় হাজার 875 টি ফিজিক্যাল ফ্যাশন স্টোর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল যা 2017 সাল নাগাদ প্রায় সাড়ে 9 হাজার এ উন্নীত হয়।


দেশীয় বাজারগুলোতে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, শপিং সেন্টার গুলোর অনেক বড় একটি অংশ জুড়ে ফ্যাশন ও পোশাকের স্টোর বিদ্যমান। এ থেকে ধারণা পাওয়া যায় পোশাক পণ্যসামগ্রীর কি পরিমাণ চাহিদা রয়েছে। তাই ফ্যাশন ও পোশাক ব্যবসার আইডিয়া আপনার জন্য হতে পারে ই-কমার্স ব্যবসার উদ্যোগ গ্রহণ করার অন্যতম একটি বাণিজ্যিক বিভাগ।


অনলাইন খেলনা পণ্যসামগ্রীর স্টোরঃ

Marketresearchfuture বলেছে মানুষের জন্মের হার বৃদ্ধির ফলে 2024 সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী শিশুদের খেলনা পণ্য সামগ্রী বিক্রয়ের পরিমাণ প্রায় 7.6 বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো এক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করবে। যেহেতু জন্মের হার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তুলনামূলকভাবে বেশি।


খেলনার ব্যবহারে শিশুদের যেমন মেধার বিকাশ ঘটে, তেমনি তাদেরকে নিজেদের সাথে ব্যস্ত রাখতেও সহায়তা করে। তাই অভিভাবকরা শিশুদের বিনোদন ও মেধা বিকাশে খেলনা পণ্য সামগ্রী তে যথেষ্ট অর্থ ব্যয় করে থাকে।যার ফলে প্রায় প্রতিটি পরিবারে শিশুদের মাঝে একাধিক খেলার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।


Statista জরিপ অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী শিশুদের খেলনার বার্ষিক বাজার প্রতিবছর গড়ে 10 শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।তাই শুধুমাত্র শিশুদের খেলনার বাজারটিকে কেন্দ্র করে খেলনা ও তাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত পণ্য সামগ্রী নিয়ে অনলাইনে স্টোর শুরু করা যেতে পারে।


অনলাইন ব্যাগ স্টোরঃ

জনপ্রিয় আরেকটি বাণিজ্যিক ক্যাটাগরি এবং ব্যবসায়িক আইডিয়া হলো ব্যাগ। ব্যাগ এমন এক ধরনের পণ্য সামগ্রী যা মানুষ দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে থাকে।Grand View Research প্রতিবেদনে বলা হয় বিশ্বব্যাপী ক্রেতারা 2018 সালে ব্যাগ পণ্যসামগ্রীতে 47 মিলিয়ন ডলার অর্থ ব্যয় করেছে। 


স্কুল,কলেজ,ভ্রমণ থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাগসামগ্রী ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধুমাত্র এই ব্যাগের বাজারটি কে কেন্দ্র করে একটি অনলাইন ব্যাগ স্টোর দ্বারা ই-কমার্স প্রক্রিয়ায় ব্যবসা করার বাণিজ্যিক উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।


অনলাইন প্রসাধনী স্টোরঃ

প্রসাধনী শিল্পকে কেন্দ্র করেও ই-কমার্স প্রক্রিয়ায় ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। Forbes এর সূত্র মতে বিশ্বব্যাপী প্রসাধনী সামগ্রীর বাজার মূল্য প্রায় 532 বিলিয়ন ডলার এবং বাৎসরিক চাহিদা বৃদ্ধির হার 5 থেকে 7 শতাংশ।


স্কিন কেয়ার,হেয়ার কেয়ার, পারফিউম,মেকআপসহ ওরাল কসমেটিক হলো এই ক্যাটাগরির প্রধান ও জনপ্রিয় পণ্যসমূহ। যেহেতু পুরুষদের তুলনায় নারীরা এই ধরনের পণ্য বেশি ব্যবহার করে থাকে, তাই নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এই ক্যাটাগরিটি উপযুক্ত হতে পারে।


অনলাইন আসবাবপত্রের স্টোরঃ

প্রয়োজনে হোক বা সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে, প্রতিটি ঘরেই আসবাবপত্রের ব্যবহার হয়ে থাকে‌। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারেও আসবাবপত্রের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।


বিশ্ববাণিজ্য গবেষণা সংস্থা গুলোর তথ্য মতে, বিশ্বব্যাপী আসবাবপত্র বাজারের পরিমাণ 480 বিলিয়ন ডলার। যার বাৎসরিক চাহিদা 5% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেহেতু আসবাবপত্র দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় একটি পণ্য সামগ্রী তাই এটি এর প্রয়োজনীয়তা যে সবসময় থাকবে তা স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা যায়।


তাই ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যবহৃত হয় এমন আসবাবপত্র অনলাইনে বিক্রয়ের মাধ্যমে ই-কমার্স বাণিজ্য পরিচালনা করা যেতে পারে।


অনলাইন ভিত্তিক হোমডেকর শপঃ

যেহেতু সময়ের সাথে সাথে মানুষের রুচি ও জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হচ্ছে তাই আসবাবপত্রের পাশাপাশি হোমডেকর বা ঘরসজ্জার পণ্যসামগ্রীর ব্যবহারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত বা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী প্রায় প্রত্যেক শ্রেণীর পরিবারই বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কমবেশি অর্থ ব্যয় করে থাকে।


চারুশিল্পে স্বাস্থ্যসম্মত এমন নানা ধরনের পণ্য রয়েছে যার ব্যবহারে সিমিত খরচে বাড়িকে সুসজ্জিত করা যায়।সে ধরনের আর্টিস্টিক হোম ডেকর পণ্যসমূহ অফার করার মাধ্যমে বাণিজ্যিক উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।


ইলেকট্রনিক্স ই-কমার্স শপঃ

ইলেকট্রনিক্স জনপ্রিয় একটি বাণিজ্যিক ক্যাটাগরি।মোবাইল,টেলিভিশন,ফ্রিজ,এসি ,স্মার্ট ঘড়ি,ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি হচ্ছে এই ক্যাটাগরির সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্যসমূহ।বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পরিবেশক হিসেবে যুক্ত হয়ে তাদের পণ্যসমূহ অনলাইনে অফার করার মাধ্যমে ই-কমার্স প্রক্রিয়ায় একটি ইলেকট্রনিক্স শপ শুরু করা যেতে পারে।


যেহেতু ইলেকট্রনিক্স শপটি অনলাইন ভিত্তিক হবে তাই আকর্ষণীয় স্থানে এর শো-রুম ভাড়া নেয়ার প্রয়োজন পড়বে না। যেকোন স্থানের ওয়্যারহাউজ থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।


কম্পিউটার যন্ত্রাংশ শপঃ

ব্যক্তিগত ব্যবহারের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক কাজে কম্পিউটারের ব্যবহার এখন সর্বত্র।এছাড়াও ফ্রিল্যান্সিং কাজের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে ঘরে ঘরে কম্পিউটারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।


প্রযুক্তির ব্যবহার যত বৃদ্ধি পাবে ততোই যে এ পণ্যটির চাহিদা বাড়তে থাকবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তাই অনলাইনে বাণিজ্যিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে কম্পিউটার উপযুক্ত একটি ক্যাটাগরি হতে পারে।


অনলাইন ভিত্তিক মোটর যন্ত্রাংশ শপঃ

মোটর যন্ত্রাংশ ইলেকট্রনিক্স শিল্পের একটি অংশ হলেও পরিবহন শিল্পে এটি একটি জনপ্রিয় ক্যাটাগরি।যা দ্বারাও অনলাইনে ই-কমার্স ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।


মোটরবাইক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের মোটর যানবাহনগুলোর যন্ত্রাংশ অফার করার মাধ্যমে অনলাইনে একটি মোটর পার্টস শপ চালু করা যেতে পারে।


অনলাইন ফিটনেস গেজেট স্টোরঃ

স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বড় শহরগুলোতে জিম বা ব্যায়ামাগারের সংখ্যাও বাড়ছে। এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা সময়ের অভাবে ব্যায়ামাগারে যেতে পারে না। তাই নিজস্ব ঘড়ে স্মার্ট ব্যায়ামাগারের সরঞ্জামের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।


যেগুলোর ব্যবহারে অতি অল্প সময়ে যেকোনো সময় শরীর চর্চা করা যায়। সে সকল স্বাস্থ্যসচেতন গ্রাহকদের জন্য একটি অনলাইন ফিটনেস শপ খোলা যেতে পারে। যেখানে ফিটনেস সম্পর্কিত স্মার্ট গ্যাজেটগুলো অফার করা যেতে পারে।


রান্নার পণ্যসমূহের স্টোরঃ

দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত আরেকটি জনপ্রিয় ক্যাটাগরি হলো রান্নাঘরে ব্যবহৃত সরঞ্জামসমূহ। রান্নার কাজে নানা ধরনের যে সরঞ্জামগুলো ব্যবহার হয়ে থাকে সে সকল কিচেন এক্সেসরিজ নিয়ে অনলাইন স্টোর শুরু করা যেতে পারে।


বাজার গবেষণা সংস্থা আলিফ মার্কেট রিসার্চের জরিপ অনুযায়ী রান্নার সরঞ্জাম পণ্যসমূহের বার্ষিক বাজার চাহিদা 6% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।2019 সালে বিশ্বব্যাপী রান্নার সরঞ্জাম পণ্যসমূহের বাজারের আকৃতি ছিল 237 বিলিয়ন ডলার। 2027 সালের মধ্যে 287 বিলিয়নে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেহেতু এই ধরনের পণ্যসমূহ দৈনন্দিন জীবনে অতি প্রয়োজনীয়, তাই এই ক্যাটাগরির পণ্যসমূহের চাহিদা সর্বদাই থাকবে।


অনলাইন গ্রোসারি শপঃ

আশেপাশে সবচেয়ে বেশি যে ধরনের স্টোর দেখা যায় তা হল গ্রোসারি শপ বা মুদির দোকান।স্বাভাবিকভাবেই এসব গ্রোসারি স্টোর বা মুদি দোকানের বিশেষ চাহিদা রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় যত খাদ্যপণ্য রয়েছে সেগুলো অনলাইনে অফার করার মাধ্যমে গ্রোসারি স্টোর শুরু করা যেতে পারে।



অনলাইন অলংকার শপঃ

অলংকার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ এর অধিক প্রাচীন একটি পদ্ধতি এবং তা এখনও বিদ্যমান। নারীদের মধ্যে স্বর্ণালঙ্কারসহ নানা ধরনের গহনার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এমনকি ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অনেকেই অলংকারে বিনিয়োগ করে থাকে।


এছাড়া নানা ধরনের চারু শিল্পসম্মত গহনা ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তাই অলংকার হতে পারে অনলাইনে বাণিজ্যিক উদ্যোগ গ্রহণের অন্যতম একটি কার্যকরী ক্যাটাগরি।


অনলাইন ভিত্তিক ডিজিটাল পণ্য ও সেবা বিক্রয়ঃ

ইন্টারনেটে নানা ধরনের ব্যবসা যথাযথভাবে পরিচালনা করতে নানা ধরনের ডিজিটাল পণ্য ও সেবার প্রয়োজন হয়। যেমনঃ সফটওয়্যার, গ্রাফিক্স, স্টকফটো, ওয়েবসাইট এর থিম, টেমপ্লেট ইত্যাদি।


এই সবগুলোই ডিজিটাল পণ্য সেবার আওতায় পড়ে। একটি অনলাইন শপের মাধ্যমে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ধরনের ডিজিটাল পণ্য-সেবা দ্বারা সহযোগিতা করার মাধ্যমে ই-কমার্স বাণিজ্য পরিচালনা করা যেতে পারে।


অনলাইন বুক স্টোরঃ

অনলাইন বুক স্টোর হতে পারে শিক্ষাখাতে অন্যতম একটি উদ্যোগ। বই ও স্টেশনারি পণ্যের ব্যবহার সর্বদাই থাকবে।তাই প্রাতিষ্ঠানিক বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই ও স্টেশনারি সরঞ্জাম দ্বারা একটি অনলাইন স্টোর শুরু করার মাধ্যমে ই-কমার্স প্রক্রিয়ায় কাজ করা যেতে পারে।

♥️♥️♥️♥️♥️♥️♥️♥️♥️♥️♥️♥️♥️♥️

এই ছিল কিছু অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসার আইডিয়া।এমন আরও অসংখ্য ক্যাটাগরি রয়েছে।তবে সেগুলো পরবর্তী কোনো পর্বের জন্য রেখে দেয়া যাক।উল্লেখিত বিষয়গুলোর যে কোনো একটিকে নির্বাচন করে ঘরে বসে ব্যবসা অর্থাৎ ই-কমার্স প্রক্রিয়ায় বাণিজ্যিক উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।


আজ এ পর্যন্তই।এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে আপনার যেকোনো ধরনের মতামত কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাবেন।পরবর্তী আর্টিকেলটি পড়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে আজকের মত এখানেই শেষ করছি।

0 Comments

Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post